বিনা জামেলায় কমলার খোসা দিয়ে ফেসপ্যাক বানান

ফেসপ্যাক বানানোর আধুনিক পদ্ধতি জেনে নিন

 

কমলা খুবই সুস্বাদু টক জাতীয় একটি রসালো ফল । এই ফলটি টক মিষ্টি জাতীয় হয় । খেতে অনেক মজা লাগে । ছোট বড় সবাই, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাটা খুব পছন্দ করে । এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে ।


তাই ভিটামিন সি এর অভাব দূর করতে আমরা নিয়মিত কমলা খেতে পারি । এই ফলটি যেমন আমাদের শরীরের জন্য কার্যকর, ঠিক তেমনিভাবে কমলার খোসাও আমাদের জন্য অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ । চলুন আজ আমরা কমলার খোসা নিয়ে আলোচনা করি । 

পেজ সূচিপত্রঃ  কমলার খোসা সম্পর্কে আজ আমরা যা যা নিয়ে আলোচনা করব তা হল

কমলা এবং কমলার খোসা 

কমলা খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণে ভরা একটি ফল । এই টক মিষ্টি জাতীয় ফল খেতে খুবই ভালো লাগে । এই ফলটি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এ ভরা । তাই আমাদের শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব দূর করতে আমরা নিয়মিত কমলালেবু খেতে পারি । কাটা, ছেঁড়া, ঘা, ক্ষত পূরণ করতে বা কাটা ছেঁড়া তাড়াতাড়ি জোড়া লাগতে আমরা কমলালেবু খেতে পারি । 

কমলা লেবু আমাদের জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনিভাবে কমলা লেবুর খোসাও আমাদের জন্য অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ । অর্থাৎ এই খোসা দিয়ে আমরা ফেসপ্যাক বানিয়ে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারি । এছাড়াও এই খোসা থেকে তেল বানিয়ে আমরা চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারি । এই খোসা আমাদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয় । তাই কমলার পাশাপাশি খোসাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।

কমলার গুণাগুণ 

কমলার অনেক গুনাগুণ রয়েছে যা বলে শেষ করা সম্ভব নয় । কমলালেবু আমাদের শরীরের যেমন ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ করে, ঠিক তেমনি ভাবে আরও বিভিন্ন রোগবালায় থেকে দূরে রাখে ।কমলালেবু ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর একটি ফল । এটি খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে । এছাড়াও আমাদের ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে । হৃদযন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করে । তাই বুঝতেই পারছেন এর কতগুলো গুণাবলী রয়েছে । এছাড়াও আমাদের শরীরের কোন অংশ কেটে গেলে বা ক্ষত হলে কমলালেবু খেলে তা তাড়াতাড়ি ভালো হতে সাহায্য করে । এছাড়াও নিয়মিত কমলা খেলে আমাদের ক্লান্তি দূর হয় এবং শরীর সতেজ থাকে । 

কমলার খোসার গুনাগুণ 

কমলা যেমন অনেক উপকারী এবং কার্যকরী একটি ফল, ঠিক তেমনি ভাবে কমলার খোসা আমাদের অনেক উপকারে আসে । প্রথমত এটি আমরা আমাদের ত্বকের যত্নে ব্যবহার করে থাকি । ত্বকের যত্নের জন্য আমরা কামলার খোসা কাঁচা পিষে মুখে লাগাতে পারি । তারপর খোসা রোদে শুকিয়ে গুড়া করে রেখে অনেক সময় ধরে ব্যবহার করতে পারি । 


এছাড়াও আমরা কমলার খোসার টোনা বানিয়ে আমাদের ত্বকে ব্যবহার করতে পারি । এছাড়াও কমলার খোসা থেকে তেল তৈরি করে আমাদের চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারি । তাই বুঝতেই পারছেন কমলার খোসা কতগুলো কাজ রয়েছে । তাই প্রথমত আমাদের ত্বকের যত্নের জন্য আমরা কমলার খোসা নিয়মিত ব্যবহার করতে পারি । 

ত্বকের সমস্যা দূর করতে কমলা 

আমাদের ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে বা দেখা দেয় । তাই সকল সমস্যা দূর করার জন্য আমরা কমলার খোসার ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারি । আমাদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন কালচে ভাব, ব্রণ উঠা, তেলতেলে ভাব, শুষ্ক ভাব ইত্যাদি দেখা দিতে পারে । এই সকল সমস্যার জন্য আপনি কমলার খোসার ফেসপ্যাক বানিয়ে আপনি ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন । 

কমলার খোসার ফেসপ্যাক টা  খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান । যা আপনার ত্বকে ব্যবহার করলে আপনি খুব ভালো একটি রেজাল্ট পাবেন । অর্থাৎ আপনি যদি নিয়মিত কমলার খোসার ফেসপ্যাক ব্যবহার করেন, তাহলে দেখবেন আপনার ত্বক থেকে সকল সমস্যা গুলো দূর হয়ে যাবে এবং আপনার ত্বক আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠবে । 

কমলা খাওয়ার নিয়ম 

কমলা খাবার তেমন কোনো নিয়ম কানুন নেই । অর্থাৎ আপনি যেকোনো সময় চাইলে কমলালেবু খেতে পারেন । তবে কমলালেবু বা যে কোন ফল খান না কেন, এটি ভরা পেটে খেলে বেশি ভালো । অনেক সময় খালি পেটে খেলে এসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে । সেক্ষেত্রে আপনি সব সময় ভরা  পেটে অর্থাৎ খাবার খাওয়ার পর কমলালেবু খেতে পারেন । 

অর্থাৎ আপনি রাতে খাবার শেষ করার পর কমলালেবু যদি খান সেক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পাবেন । কমলা লেবু খেলে আপনার চেহারা উজ্জ্বল হবে এবং সতেজ ও প্রাণবন্ত হবে । কমলা লেবু আপনার শরীরের জন্য অনেক উপকারী একটি ফল । তাই আপনি চেষ্টা করবেন প্রতিদিন না পারলেও মাঝে মধ্যে কমলা লেবু খাওয়ার । 

কমলার ফেসপ্যাক যেভাবে বানাবেন 

কমলার ফেসপ্যাক আপনি দুইভাবে বানাতে পারেন । অর্থাৎ কমলা খাওয়ার পর তার খোসা ছাড়িয়ে খোসাটাকে ব্লেন্ডারে বা পাটায় বেটে তার সাথে মধু, টক দই ইত্যাদি জিনিস মিক্স করে ব্যবহার করতে পারেন । এটি হচ্ছে একটি পদ্ধতি । অর্থাৎ খোসাটাকে কাঁচা বেটে সাথে সাথে বানিয়ে ব্যবহার করতে হবে । এটি যখন ব্যবহার করবেন তখনই বেটে তৈরি করতে হবে । 

আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে খোসাটাকে রৌদ্রে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে । অর্থাৎ এই খোসাটা গুড়া করা যাবে, এইরকম মচমচা করে রোদে শুকাতে হবে । তারপর যখন ভালোভাবে রোদ্রে শুকিয়ে যাবে তখন আপনি খোসাটাকে গুড়া করে রেখে দিতে পারেন । অর্থাৎ যখন যখন আপনি ব্যবহার করবেন,  তখন তখন গুঁড়াটা নিয়ে পানি দিয়ে গুলে ব্যবহার করতে পারেন । এর সাথে ঠিক একই ভাবে টক দই,  মধু ইত্যাদি মিশিয়ে নিতে পারেন । 

ফেসপ্যাক ব্যবহার করার নিয়ম 

কমলা লেবুর খোসা দিয়ে যে ফেসপ্যাক টা বানাবেন সেটি ব্যবহার করা খুবই সহজ । হঠাৎ খোসাটা কাঁচা অর্থাৎ কমলা থেকে খোসা ছাড়িয়ে সাথে সাথে বেটে তার সাথে মধু, টক দই ইত্যাদি মিস করে আপনার ত্বকে লাগাবেন । তারপর ১৫-২০ মিনিট ভালোভাবে শুকিয়ে নেবেন । তারপর এটি ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলবেন । দেখবেন আপনার ত্বক অনেক সুন্দর এবং সতেজ হয়ে গেছে ।   


আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে যেটি আপনি খোসা শুকনা গুড়া করে রাখবেন । সেই গুঁড়া থেকে এক চা চামচ নিয়ে তার সঙ্গে একটু পানি দিবেন । তারপর ঠিক একইভাবে টক দই, মধু, মুলতানি মাটি বা পানির পরিবর্তে গোলাপজল ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন । সেটিও ঠিক একইভাবে মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট শুকিয়ে নিবেন । তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন । 

ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ফেসপ্যাক 

ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয় বা একেক জনের একেক ধরনের সমস্যা হয় । সকল সমস্যার জন্যই আপনি কমলা লেবুর খোসার গুড়া ব্যবহার করতে পারেন । যেমন উজ্জ্বলতা বা আদ্রতার জন্য আপনি কমলার খোসার গুড়া, তার সাথে এক চামচ মধু মিক্স করে আপনার ত্বকে লাগিয়ে ব্যবহার করতে পারেন । এতে ভাল ফল পাবেন । 

এছাড়া রোদে পোড়া ভাব দূর করতে, আপনি কমলালেবুর খোসার গুড়ার সঙ্গে বা কমলালেবু খোসা বেটে তার সাথে এক চামচ টক দই ব্যবহার করতে পারেন । এতে করে আপনার রোদে পোড়া ভাব চলে যাবে এবং আপনার ত্বক উজ্জ্বল এবং সতেজ হয়ে উঠবে । 

তারপর রয়েছে আপনার ত্বক যদি তেল তেলে হয়, সেক্ষেত্রে কি করবেন ?  আপনার ত্বকের তেল তেলে ভাব দূর করার জন্য কমলালেবুর খোসার গুঁড়ার সঙ্গে বা আস্ত কমলা লেবুর খোসা বেটে, তার সঙ্গে মুলতানি মাটি মিস করতে পারেন । তারপর সেই ফেসপ্যাক আপনার ত্বকে ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর হয়ে যাবে । 

কমলা লেবুর খোসার টোনার 

কমলালেবুর খোসার টোনার মানে হচ্ছে এক জাতীয় পানি উপাদান । যা আপনার ত্বকে ব্যবহার করলে আপনার ত্বক অনেক সুন্দর উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে । পাশাপাশি আপনার ত্বক থেকে তেল তেলে ভাব ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর হয়ে যাবে । এই টোনার আপনাকে বাড়িতে ঘরোয়া ভাবে তৈরি করতে হবে । তারপর ত্বকে ব্যবহার করতে পারবেন । 

এটি তৈরি করার জন্য প্রথমে পানি গরম করতে হবে । তারপর পানিতে কমলার খোসা ছাড়িয়ে খোসাটি পানিতে দিয়ে দিতে হবে । তারপর পানি ভালোভাবে ফুটাতে হবে । এতে করে কমলার খোসার গুনাগুন গুলো পানিতে চলে আসবে । তারপর এই পানি ঠান্ডা করে আপনার মুখে স্ক্রাব করতে হবে । দেখবেন আপনার ত্বক অনেক উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে । 

কমলালেবুর খোসার তেল 

কমলালেবুর খোসার তেল বানিয়ে তা ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন । কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে রোদে শুকনো করে নিতে হবে । এই শুকনো কামলা লেবুর খোসা আমন্ড বা অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন । ওই তেলের জারের মধ্যে খোসা গুলো রেখে দেবেন । একটু অন্ধকার এবং ঠান্ডা জায়গায় বোতলটি রাখলে ভালো হয় । সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে কমলালেবুর খোসার তেল ।


এই তেল শ্যাম্পু, হেয়ার অয়েল বা ফেসিয়াল ওয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে উপকার বেশি পাবেন । তবে আপনি এমনিতেও  ব্যবহার করতে পারেন । তাতে কোন সমস্যা নেই । এভাবে আপনি আপনার চুলে ব্যবহার করে উপকৃত হবেন । এটি ব্যবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হবে, খুশকি দূর হবে ।  এছাড়াও নানা সমস্যা দূর হয়ে যাবে ।

সংরক্ষণ পদ্ধতি

সংরক্ষণ পদ্ধতি অর্থাৎ গুড়া তৈরি করার পর আপনি কিভাবে সংরক্ষণ করে রাখবেন । কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে সেই খোসাটি সাথে সাথে বেটে ফেসপ্যাক বানিয়ে আপনি ব্যবহার করতে পারেন । এক্ষেত্রে সংরক্ষণ করে রাখার কোন পদ্ধতি নেই । কিন্তু কমলার খোসা রোদে শুকিয়ে যখন গুড়া করে রাখবেন দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার জন্য । সেক্ষেত্রে সংরক্ষণ করার প্রয়োজন রয়েছে । 

অর্থাৎ কমলার খোসা প্রথমে গুড়া করে নিবেন । তারপর সেটি একটি প্লাস্টিকের বা কাঁচের যেকোনো বয়ামে আপনি সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন । তবে প্লাস্টিকের চেয়ে যদি কাঁচের বয়ামে সংরক্ষণ করে রাখেন, তাহলে বেশি দিন ভালো থাকে । এটি ঠান্ডা জায়গায় রাখলে বেশি ভালো থাকে । এটাই হচ্ছে সংরক্ষণ পদ্ধতি ।

শেষ কথা

কমলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পুষ্টিকর একটি ফল । এই  টক মিষ্টি ফলটি খেতে খুব ভালো লাগে । এটি খেতে যেমন ভালো লাগে ঠিক তেমনি আমাদের শরীরের জন্য অনেক পুষ্টিকর । আর কমলার পাশাপাশি কমলালেবুর খোসাও আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ । তাই কমলা খেলে একসঙ্গে দুটি উপকার পাওয়া যাবে ।

কমলা আমাদের শরীরের ভিটামিন সি এর অভাব দূর করবে । পাশাপাশি কমলা লেবুর খোসা আমাদের ত্বক এবং চুলের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে । আর্টিকেলটা কেমন হয়েছে কমেন্টে জানাবেন । কোন ভুল ত্রুটি হলে মাফ করবেন । আমার যতটুকু জানা আছে তার সব দিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি ।  সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন । সবাইকে অনেক ধন্যবাদ ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url